প্রথম তিন ম্যাচে দুই দলই ছিল অপ্রতিরোধ্য। প্রতিপক্ষকে তেমন লড়াইয়ের সুযোগ দেয়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আফগানিস্তান। মুখোমুখি লড়াইয়ে থামল আফগানিস্তানের জয়যাত্রা। বড় জয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করল স্বাগতিকরা।
সেন্ট লুসিয়ায় বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সকালে আফগানিস্তানকে ১০৪ রানে হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২১৯ রানের লক্ষ্যে ২২ বল বাকি থাকতেই ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় আফগানরা।
আগে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই এদিন আক্রমণাত্মক ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। যদিও দ্বিতীয় ওভারে গিয়েই ব্রেন্ডন কিংকে ফেরান আজমতউল্লাহ ওমরজাই। ৬ বলে ৭ রান করে তিনি হযে যান বোল্ড। এরপর ক্রিজে আসেন নিকোলাস পুরান।
আফগানিস্তানের দুঃস্বপ্নের শুরুও হয় ওখানেই। ফজল হক ফারুকীর তৃতীয় ওভারে ১৫ রান এনে দেন জনসন চার্লস। পুরান আজমতউল্লাহ করার পরের ওভারে নেন ৩৬ রান! সব অবশ্য ব্যাট থেকে আসেনি। তিনটি ছক্কা ও দুটি চার হাঁকান পুরান। এর সঙ্গে নো বল, ওয়াইড, লেগ বাই মিলিয়ে আসে বাকি রান।
এক ওভারে ৩৬ রান হজম করার তালিকায় পাঁচ নম্বর নাম এখন ওমরাজাইয়ের। এর আগে ২০০৭ সালে স্টুয়ার্ট ব্রডের বলে প্রথমবার যুবরাজ সিং ৩৬ রান নিয়েছিলেন। পাওয়ার প্লের ছয় ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তোলে ৯২ রান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি রান এটি পাওয়ার প্লেতে।
অষ্টম ওভারে গিয়ে আরো একটি উইকেট তুলে নেয় আফগানিস্তান। এবার ২৭ বলে ৪৩ রান করা চার্লসের ক্যাচ নেন গুলবাদিন নাইব। নাবিন উল হকের বলে আউট হন তিনি। মাঝের ওভারগুলোতে রানের গতি কিছুটা কমে আসে।
গুলবাদিন নাইবের ওভারে ১৭ বলে ২৫ রান করে আউট হন শাই হোপ। শেষদিকে গিয়ে ফের ঝড় তোলেন পুরান। রশিদ খানের করা ১৮তম ওভার থেকে ২৪ রান নেন তিনি। নাভিনের করা ইনিংসের শেষ ওভারের প্রথম তিনটির দুটিতে ছক্কা হাঁকান।
পৌঁছে যান ৯৮ রানে। কিন্তু রান আউট হয়ে আর সেঞ্চুরি পূর্ণ করা হয়নি তার। ৫৩ বলে ৬টি চার ও ৮টি ছক্কায় ৯৮ রান করেন তিনি। তার ইনিংসে এবারের বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসেরও পঞ্চম সর্বোচ্চ দলীয় রান এটি।
বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে একদমই সুবিধা করতে পারেনি আফগানিস্তান। দলটির পক্ষে ২৮ বলে সর্বোচ্চ ৩৮ রান করেন ইবরাহিম জাদরান। ১৯ বলে ২৩ রান আসে আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের ব্যাটে। এর বাইরে দুজন ব্যাটারই নিজেদের রান নিয়ে যেতে পেরেছেন দুই অঙ্কের ঘরে।
৯ বলে করিম জানাত ১৪ ও রশিদ খান ১১ বলে ১৯ রান করেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে ৩ ওভারে ১৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন ওভেদ ম্যাককয়। দুটি করে উইকেট পান আকিল হোসেন ও গুদাকেশ মোতি। একটি করে উইকেট নেন আন্দ্রে রাসেল ও আলজেরি জোসেফ।